উত্তরদিনাজপুর

মারা যাবার পরেও করা হল না ছেলের অন্তিম সংস্কার। ভেলায় করে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হল নদীতে

সাপের কামড়ে মৃত শিশুকে সৎকার না করে ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দিল পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও করনদিঘী ব্লকের সীমান্তবর্তী নাগর নদীতে।

একবিংশ শতাব্দীতে যে এমন ঘটনাও ঘটতে পারে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না অনেকে। কিন্তু তাঁদের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের তোয়াক্কা না করেই ঘটল এ ঘটনা। ডাইনি হত্যা, ওঝা ইত্যাদি বিভিন্ন কুসংস্কার বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিকবার খবরের শিরোনামে এসেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার নাম। তবে সাপের কামড়ে মৃত শিশুর সৎকার না করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা এই জেলায় নজিরবিহীন।   

            জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার পার্শ্ববর্তী বিহারের দাড়িভিটার বাসিন্দা অনিতে মুর্মুর(৮) মৃত্যু হয় বিষাক্ত সাপের ছোবলে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার। এরপরই পরিবারের সকলে সিদ্ধান্ত নেন, মৃতদেহের সৎকার না করে রায়গঞ্জ ও করনদীঘি ব্লকের সীমান্তবর্তী নাগর নদীতে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দেবেন দেবেন ওই শিশুকে। অলৌকিক কোনও মায়ায় যদি প্রাণ ফিরে পায় অনিতে। সাজানো কলার ভেলায় তুলে দেওয়া হয় মৃত শিশুটিকে। 

            পরিজনের দাবি, সাপের বিষ জলে থাকতে থাকতে নির্বিষও হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের অত্যন্ত কাছের পরিজনকে হারিয়েও ফিরে পাওয়ার আশাতেই করা হয়েছে এই কাজ। 

            যদিও মৃতের পরিজনদের দাবিকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজ্ঞানমঞ্চের সদস্যরা। মঞ্চের অন্যতম সদস্য অঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সাপের বিষ থেকে মুক্তি লাভ একমাত্র অ্যান্টি ভেনম ছাড়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞানের ছোঁয়া না পাওয়ার কারণেই এখনও কুসংস্কার আমাদের সমাজকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে। এরই প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা গিয়েছে এই ঘটনা।’’

            ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন পুরনো দিনে এই সমস্ত কুসংস্কার গুলি ছিল  কিন্তু এখনতো তা নেই। এখন এই গুলো তো মানুষের দীর্ঘকালীন লালিত কুসস্কার আর মানুষ তা বহন করে।সাপের বিষ থেকে মুক্তি লাভ একমাত্র অ্যান্টি ভেনম। যে সমস্ত এলাকায় সাপের উপদ্রপ বেশ বা যে কোন দুর্ঘটনা ঘটনার প্রবণতা বেশী। ওই এলাকার স্বাস্থ্য দপ্তরে বা হাসপাতালে সব সময়ের জন্য সাপের অ্যান্টি ভেনম রাখা উচিত। বা ওই সমস্ত দুর্ঘটনা হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সব সময় তৈরি থাকা প্রয়োজন।